সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০১০

এক্কা দুক্কা......

আমার কিছু পুতুল ছিল। অনেক বড় হয়েও সেগুলো দিয়ে খেলতাম আমি। মা মাঝে মাঝে রাগ করতেন। এম.এস.সি তে যখন পড়ি তখনও আমার পুতুলগুলো ছিল...অনেক গুলো মাটির পুতুল সাথে পালকি তাও আবার তিন তলা । প্রতি বছর পুতুলের তোশক আর বালিশ পালটে দিতাম। তারপর ঢাকায় চলে আসি আর কখনই মনে পরেনি আমার পুতুল গুলোর কথা। এখন বাসায় ফিরলে মনেও আসেনা পুতুল গুলোর কথা। কিন্তু আজ কেন খুব মনে পরছে আমার পুতুল গুলোর কথা? আমার মন কেমন করছে সত্যি...।
গত ৫ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে...বদলে গেছি আমি নিজেও...একটা নির্দিষ্ট সময় পর সবাইকেই মনে হয় বদলে যেতে হয়, না হলে হয়ত বড় বেশি বেমানান লাগে।
আমার এখনও কানামাছি খেলতে ইচ্ছে করে...ইচ্ছে করে সাত পাতা খেলতে...ছোট বেলায় যখন দম এ কুলাতে পারতামনা...দম নিয়া পাতা কুড়িয়ে যখন ফিরে আসতে হত তখন খুব কষ্ট হত, রাগ ও হত খুব কেন এত দূরে পাতা কুড়াতে যেতে বলে কাছের পাতাগুলোর নাম বলতে পারেনা? এখন তো আমি অনেক দম রাখতে পারি অনেক দূর থেকে পাতা কুড়িয়ে জড়ো করতে যে খুব ইচ্ছে করে আমার। এক্কা দুক্কা খেলতে গিয়ে কত যে পা এর নখ ঊল্টে যেত তাও খেলা থেমে থাকতনা...আমারযে এক্কা দুক্কা খেলে এখনো পা এর নখ ঊল্টাতে ইচ্ছে করে...একবার স্কুল এ বিস্কিট দৌড় খেলায় বিস্কিট নিয়া দৌড় দিয়ে স্যার এর সামনে গেলে স্যার যখন বলল হা কর বিস্কিট দেখি...তখন তো আমি শুকিয়ে কাঠ...বলে কিরে বাবা...আমি বললাম স্যার আমি তো বিস্কিট খেয়ে ফেলেছি...আমার যে এখনও লাফ দিয়ে সুতো দিয়ে বাঁধা ওই বিস্কিট খেতে ইচ্ছে করে...
স্কুল এর পাশে একটা বড় ঝিল ছিল, বর্ষার সময় শাপলা আর শালুক এ ভরে যেত। কি যে ভাল লাগত দেখতে তখন। শাপলা আর শালুক কুড়াতে কুড়াতে কখন যে অন্য সীমানায় চলে যেতাম দল বেধে হুঁশই থাকতনা...খুব ইচ্ছে করে আমার এখন ও শালুক কুড়াতে...কতদিন বেট কুড়িয়ে খাইনা...আমি কি সত্যি অনেক বড় হয়ে গেছি?
আমার ইচ্ছে গুলো কি খুব বেশি বেমানান? কি জানি হবে হয়ত বা হয়ত না...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন